বাংলাদেশের কাছে জিম্বাবুয়ে হোয়াইট ওয়াশ

564
Advertisement

: ক্রীড়া প্রতিবেদক :  জিম্বাবুয়ের দেয়া ২৮৭ রানের লক্ষ্য ইমরুল কায়েস আর সৌম্য সরকারের জোড়া শতকে মাত্র ৪২.১ ওভারেই ৩ উইকেট হারিয়ে লক্ষে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। সৌম্য সরকার আর ইমরুল কায়েসের অনবদ্য শতকে ভর করে গতকাল শুক্রবার চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বাংলাদেশ জয় ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে । যদিও এর আগে ব্যাটিংয়ে শেন উইলিয়ামসের শতকে বাংলাদেশকে ২৮৬ রানের বড় চ্যালেঞ্জ দেয় জিম্বাবুয়ে। 

টসে হেরে ব্যাটে নেমে শুরুটা অবশ্য ভাল হয়নি জিম্বাবুয়ের। দলীয় ৬ রানে ফিরে যান দুই ওপেনার। তরুণ পেসার সাইফউদ্দিন ও আবু হায়দার রনি যথাক্রমে বোল্ড করেন কেপাস জুয়াও এবং হ্যামিল্টন মাসাকাদজাকে। এই প্রাথমিক বিপর্যয় সামলে প্রতিরোধ গড়েন ব্যান্ডন টেলর ও শেন উইলিয়ামস। দু’জনের জুটিতে আসে ১৩২ রান। টেইলার ৭৫ রানে ফিরে গেলেও একপ্রান্ত আগলে রেখে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় শতক তুলে নেন উইলিয়ামস। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ক্যারিয়ার সেরা ১২৯ রান করেন উইলিয়ামস। এর আগে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে তার সেরা ছিল ১০২ রান। টেইলরের বিদায়ের পর উইলিয়ামসকে দারুণ সঙ্গ দেন সিকান্দার রাজা (৪০)। তবে টেইলরের মতো তাকেও ফেরান স্পিনার নাজমুল ইসলাম অপু। ওই জুটিতে ৮৪ রান আসে। এরপর পিটার মুর ২৮ রান করে রানআউট হন। আর এল্টন চিগুম্বুরা ১ রানে অপরাজিত থাকেন। বাংলাদেশের পক্ষে নাজমুল ইসলাম অপু ২ উইকেট নেন। এছাড়া আবু হয়দার রনি ও সাইফউদ্দিন ১টি করে উইকেট নেন।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা হয় একেবারেই বাজেভাবে। দলের খাতায় কোন রান যোগ না হতেই ফিরে যান ওপেনার লিটন দাস। এরপর দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ইমরুল কায়েস ও সৌম্য সরকার ২২০ রানের পার্টনারশিপ গড়েন। ইনিংসের ৩০তম ওভারে হ্যামিলটন মাসাকাদজার বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে ডোনাল্ড তিরিপানোর হাতে ক্যাচ হন তিনি। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে ওয়ানডেতে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ইমরুল-সৌম্যর এই জুটিই এখন সেরা। এর আগে ওয়ানডে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসানের ২০৭ রানের জুটি সেরা ছিল। যেকোনো জুটিতে ইমরুল-সৌম্যর এই জুটি দ্বিতীয় অবস্থানে আছে। প্রথম অবস্থানে আছে সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ২২৪ রানের জুটি।
সৌম্য সরকার ফিরে যাওয়ার পর ইমরুল কায়েস ও মুশফিকুর রহিম ৫৪ রানের পার্টনারশিপ গড়েন। ইনিংসের ৪০তম ওভারে ওয়েলিংটন মাসাকাদজার বলে এলটন চিগুম্বুরার হাতে ক্যাচ হন ইমরুল কায়েস। এরপর মুশফিকুর রহিম ও মোহাম্মদ মিথুন দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন। মুশফিকুর রহীম অপরাজিত ছিলেন ২৮ রানে আর মোহাম্মদ মিথুন ৭ রানে।
এর আগে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ২৮ রানে জয় পায় বাংলাদেশ। আর চট্টগ্রামে দ্বিতীয় ওয়ানডে জয় পায় ৭ উইকেটে।